সোনালী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার ওয়াহিদা রহমান পলিকে কর্তৃপক্ষ সাময়িক বরখাস্ত করেছে। তিনি ব্যাংকের নওয়াপাড়া, অভয়নগর ও খুলনা নিউমার্কেট শাখায় এ দায়িত্বে অধিষ্ঠ ছিলেন। আওয়ামী শাসন আমলে বঙ্গমাতা পরিষদের স্থানীয় শাখার সাধারণ সম্পাদিকার দায়িত্ব পালন করেন।
২০১০ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তিনি দাপটের সাথে চাকরি করেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে তোয়াক্কা করতেন না। চেক ডিজঅনার মামলা হওয়া সত্ত্বেও স্বৈরশাসন আমলে তার বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তিনি নগরীর আপার যশোর রোডস্থ রেলওয়ের প্রধান ফটকের দক্ষিণ পাশের একটি বাড়ির বাসিন্দা। মোঃ খায়রুজ্জামান তার স্বামী ও কাজী সিরাজুর রহমান তার পিতা। নগরীর শেখপাড়াস্থ শহিদ আবুল সড়কের বাড়িতে তিনি একাকী থাকেন।
আদালতে দায়ের করা এনআই এক্টের মামলায় ভুক্তভোগী শেখ মারুফ হোসেন উল্লেখ করেন তার কাছ থেকে উল্লিখিত ব্যাংক কর্মকর্তা ১২ লাখ টাকা ধার নেন। ৭ লাখ টাকা পরিশোধের লক্ষ্যে চেক প্রদান করলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে প্রয়োজনীয় অর্থ না থাকায় ডিজঅনার হয়। বাদী ২০২২ সালের ২০ এপ্রিল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে মামলা করেন। চারাবাটি এলকার জননী জুয়েলার্সের চন্ডিদাশ রুদ্রের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর দুই লাখ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে এ ব্যাংক কর্মকর্তা চেক প্রদান করেন। চেকে প্রয়োজনীয় টাকা না থাকায় ২০২৫ সালের ২৫ মে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে তার বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা হয়।
স্থানীয় বিকে রায় রোডের নাহিদা আক্তার নামক এক গৃহিণীকে দেওয়া ১২ লাখ টাকার চেকও ডিজঅনার হয়। তিনি ২০২৩ সালের ২৫ মে মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে মামলা দায়ের করেন। তার বিরুদ্ধে এ ধরনের মামলার সংখ্যার ৮টি। সরকারি পাইওনিয়ার মাহিলা মহাবিদ্যালয়ের রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান প্রফেসর মোঃ শামিম হোসেন উক্ত ব্যাংক কর্মকর্তার কাছে এক লাখ টাকা পাওনা দাবি করে থানায় অভিযোগ করেন।
সোনালী ব্যাংক নিউমার্কেট শাখার এজিএম বিকাশ কুমার ব্যানার্জি সংশ্লিষ্ট অফিসারকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী কোনো কর্মকর্তা কর্মচারী কারাভোগ করলে এ ধরনের শাস্তির বিধান রয়েছে। সোনালী ব্যাংক খুলনা জোনের জেনারেল ম্যানেজার জাহিদুল ইসলাম মোল্লা বলেন, একাধিক মামলার আসামি ও কারাভোগ করায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
স্বৈরশাসন আমলে আলোচিত ক্যাসিনো নামক জুয়ায় জড়িত হয়ে আড়াই কোটি টাকা পুঁজি হারানোর পর বরখাস্তকৃত এ ব্যাংক কর্মকর্তা প্রতারণার নানা কৌশল অবলম্বন করেন।
খুলনা গেজেট/এনএম

